লেখকদের প্রতিবাদ, অ্যানথ্রপিক সেটেলমেন্টের অর্থ দাবি করছেন প্রকাশক ও এজেন্টরা

অ্যানথ্রপিকের ১৫০ কোটি ডলারের কপিরাইট সেটেলমেন্ট থেকে অর্থ পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা অনেক লেখক সম্প্রতি এমন কিছু ইমেইল পেয়েছেন, যা তাদের রীতিমতো অবাক করে দিয়েছে — সেই ইমেইলগুলোতে জানানো হয়েছে যে তাদের প্রাপ্য অর্থের ওপর অন্য কেউও দাবি জানিয়েছে।

গত বছর একটি আদালতের রায়ে বলা হয়, কপিরাইটযুক্ত লেখার ওপর এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া “ফেয়ার ইউজ” নীতির আওতায় বৈধ, তবে সেই লেখা চুরি করে (পাইরেসি) সংগ্রহ করা বৈধ নয়। এরপরই অ্যানথ্রপিক একটি কপিরাইট সংক্রান্ত ক্লাস-অ্যাকশন মামলা নিষ্পত্তি করে। চলতি বছরের জুলাই মাসে এই সেটেলমেন্ট চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সেটেলমেন্টের শর্ত অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ শিরোনামের লেখকদের প্রতিটি পাইরেটেড কাজের জন্য ৩,০০০ ডলার করে দেওয়া হবে। বইটি যদি এখনও প্রচলিত কোনো প্রকাশনী সংস্থার অধীনে ছাপা অবস্থায় থাকে, তাহলে সেই অর্থ লেখক ও প্রকাশকের মধ্যে সমান ভাগে (৫০-৫০) ভাগ হবে। আর বইটি যদি লেখক নিজে প্রকাশ করে থাকেন, বা প্রকাশনী স্বত্ব লেখকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে থাকে (বইটি আর ছাপা না হওয়ায়), তাহলে পুরো অর্থ লেখকেরই প্রাপ্য।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক লেখক অভিযোগ করছেন, প্রকাশকরা তাদের ন্যায্য অংশের চেয়ে বেশি দাবি করছে। যেমন, রহস্য ও থ্রিলারধর্মী বইয়ের লেখক এপ্রিল হেনরি প্রশ্ন তুলেছেন, হার্পারকলিন্স কেন এমন একটি বইয়ের ওপর দাবি জানিয়েছে, যার স্বত্ব অন্তত ১৭ বছর আগেই তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল — আর একই দিনে তিনি এমন এক ক্রেডিট অ্যালার্টও পেয়েছেন, যেখানে হার্পারকলিন্সকে তার “নিয়োগকর্তা” হিসেবে দেখানো হয়েছে, যদিও বাস্তবে এমন কোনো সম্পর্কই কখনও ছিল না।

জনপ্রিয় ব্লগ “রাইটার্স বিওয়্যার”-এ ভিক্টোরিয়া স্ট্রাউস লিখেছেন, লেখকদের অভিযোগগুলো মূলত দুই ধরনের: এক ধরনের ক্ষেত্রে প্রকাশকরা এমন বইয়ের ওপর দাবি করছে যেগুলোর স্বত্ব ইতিমধ্যে লেখকের কাছে ফিরে গেছে, আর অন্য ক্ষেত্রে প্রকাশকরা মাত্র ৫০ শতাংশ প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও পুরো ১০০ শতাংশ অর্থ দাবি করছে।

স্ট্রাউস অবশ্য বলেছেন, এসব ঘটনাকে সরাসরি অসৎ উদ্দেশ্য না বলে বরং দুর্বল রেকর্ড-রক্ষণ ব্যবস্থার ফল হিসেবে দেখাই যুক্তিসঙ্গত — কিছু প্রকাশক ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে যে এটি একটি ভুল এবং তারা অ্যানথ্রপিককে তা সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে।

একই সুরে, অথরস গিল্ডের প্রধান নির্বাহী মেরি রাসেনবার্গার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তিনি এটিকে “প্রকাশকদের ইচ্ছাকৃত ছিনতাই” মনে করেন না, এবং তার ধারণায় প্রকাশকরা নির্দিষ্টভাবে কোনো লেখককে ঠকানোর চেষ্টা করছে না। তার মতে, এটি মূলত দুর্বল রেকর্ড-রক্ষণ ও একটি জটিল সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়ারই স্বাভাবিক পরিণতি।

তবে স্ট্রাউস এটাও স্বীকার করেছেন, তার কাছে আসা অভিযোগগুলো পুরো পরিস্থিতির খুবই সামান্য একটি অংশমাত্র। তবু, মাত্র দুই দিনের মধ্যে পাওয়া অস্বাভাবিক পরিমাণ অভিযোগ এবং একই ধরনের ভুল বারবার ঘটার বিষয়টি তার মতে ইঙ্গিত দেয় যে এটি নিছক বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং এর পেছনে অনেক বেশি ব্যাপক ও পদ্ধতিগত কোনো সমস্যা রয়েছে।

শুধু প্রকাশক নয়, সাহিত্য এজেন্সিগুলোও এই অর্থের ভাগ দাবি করছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন স্ট্রাউস — যা তার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে, কারণ এজেন্টরা কোনো বইয়ের স্বত্বাধিকারী নন।

লেখক কোর্টনি মিলান (আইনজীবী ও সাবেক আইন অধ্যাপক হাইডি বন্ডের ছদ্মনাম) এ বিষয়ে ব্লুস্কাইয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, কিছু এজেন্ট অ্যানথ্রপিক সেটেলমেন্টের একটি অংশ দাবি করার চেষ্টা করছে, যা তিনি একেবারেই সমর্থন করেন না এবং অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মিলান ও অথরস গিল্ড উভয়েই লেখকদের জন্য বিস্তারিত জানিয়েছেন, কীভাবে তারা তাদের প্রাপ্য অর্থের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। এখানে একটি জটিল বিষয় হলো — কোনো বইয়ের স্বত্ব ঠিক কবে লেখকের কাছে ফিরে গিয়েছিল, তার সময়। কোনো লেখক যদি কোনো বইয়ের ওপর পুরো ১০০ শতাংশ দাবি করতে চান, তাহলে সেই স্বত্ব ফেরতের ঘটনা অবশ্যই ২০২২ সালের ১০ আগস্টের আগে ঘটতে হবে — যেটি এই সেটেলমেন্টে নির্ধারিত “ডাউনলোড ডেট” হিসেবে গণ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *